Header Ads

logo-miyaji-IT1215

কুরবানির দিনে হাঁস-মুরগি জবাইয়ের বিধান কি

 



ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য শুধু আনন্দের দিন নয়, বরং ত্যাগ, ভালোবাসা আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের এক অনন্য শিক্ষা। এই দিনগুলোতে প্রতিটি ঘরে ঘরে কুরবানির আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। তবে কুরবানিকে ঘিরে সমাজে কিছু প্রচলিত ধারণাও রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতমকুরবানির দিন হাঁস-মুরগি জবাই করা যাবে কি না।

অনেকেই মনে করেন, ঈদুল আজহার দিনগুলোতে হাঁস-মুরগি জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আবার কেউ কেউ এটিকে কুরবানির বিকল্প হিসেবেও ভাবেন। আসলে ইসলামের দৃষ্টিতে বিষয়ে কী বলা হয়েছে, তা জানা জরুরি। নিচে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো

কুরবানির দিনে হাঁস-মুরগি জবাইয়ের বিধান

কোনো কোনো অঞ্চলে কথা প্রচলিত আছেকুরবানির ঈদের দিন হাঁস-মুরগি জবাই করা যায় না। বিষয়ে ইসলামের বিধান হলোহাঁস-মুরগি দিয়ে কুরবানি আদায় হয় না, তা ঠিক। কিন্তু এগুলো কুরবানির ঈদের দিন জবাই করা যাবে নাএমন কথা ঠিক নয়। কুরবানির দিনগুলোয় মাংস খাওয়ার জন্য হাঁস-মুরগি জবাই করা যাবে। তবে কুরবানির নিয়তে এগুলো জবাই করা যাবে না।

কুরবানির জন্য বৈধ পশু ও বয়সের বিধান

ঈদুল আজহার দিনের অন্যতম ইবাদত ঈদের নামাজ আদায় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি করা। ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো হালাল পশু দিয়ে কুরবানি করা যায় না, এর জন্য ইসলামের কিছু নির্ধারিত পশু রয়েছে।

কুরবানির পশু হিসেবে গৃহপালিত গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, মহিষ, উট ব্যবহার করা যায়। এ ক্ষেত্রে ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে এক বছর, গরু-মহিষ দুই বছর এবং উটের পাঁচ বছর পূর্ণ হতে হবে। এসব গৃহপালিত পশু ছাড়া অন্যান্য পশু, যেমন ঘোড়া, হরিণ, বন্য গরু ইত্যাদি দিয়ে কুরবানি করা বৈধ নয়। তদ্রূপ হাঁস-মুরগি বা কোনো পাখি দিয়েও কুরবানি আদায় হয় না।

তথ্যসূত্র— কাজিখান: ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৫, দুররুল মুখতার: ৬/৩১৩, আহসানুল ফাতাওয়া: ৭/৪৮৫, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত: ১১/৩১৫

ইসলাম সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থার শিক্ষা দেয়। তাই ধর্মীয় বিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকলে অনেক সময় সমাজে ভুল ধারণা ছড়িয়ে পড়ে। কুরবানির দিন হাঁস-মুরগি জবাই করা নিষিদ্ধ নয়, তবে এগুলো কখনোই কুরবানির বিকল্প হতে পারে না— এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানা প্রয়োজন।

ঈদুল আজহার তাৎপর্য শিক্ষা

কুরবানির ঈদ মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যা হিজরি বর্ষপঞ্জির জিলহজ মাসের ১০-১২ তারিখে উদ্যাপন করা হয়। এটি ঈদুল আজহা নামেও পরিচিত।

ঈদুল আজহা কেবল একটি উৎসব নয়এটি আত্মত্যাগ, আল্লাহর প্রতি আনুগত্য এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতীক। এদিনটি মুসলিম সমাজে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য সহমর্মিতা ছড়িয়ে দেয়। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং একত্রে সময় কাটানো ঈদের আনন্দকে আরও গভীর করে তোলে। বিশেষ করে পশু কুরবানির মাধ্যমে ত্যাগের শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ে চারদিক।

No comments